১৭ বছরের প্রবাস জীবনের সঞ্চয় হারানোর দাবি; কথিত প্রেমিকসহ দু’জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা, ন্যায়বিচারের আশায় ভুক্তভোগী।
জিএম মাকছুদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় এক প্রবাসীর কষ্টার্জিত সম্পদ আত্মসাৎ ও দাম্পত্য বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী দুবাইপ্রবাসী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, দীর্ঘ প্রবাস জীবনের সঞ্চয়ে গড়া সম্পদ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়ে তার স্ত্রী আকলিমা আক্তার কথিত এক ব্যক্তির সঙ্গে পালিয়ে গেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম প্রায় ১৭ বছর প্রবাসে থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ত্রিশ গ্রাম এলাকায় প্রায় ৩ শতক জমি ক্রয় করেন। এর মধ্যে দেড় শতক জমি স্ত্রীর নামে এবং বাকি অংশ নিজের নামে নিবন্ধন করেন। পরবর্তীতে সেখানে একটি বসতবাড়ি নির্মাণকাজও শুরু হয়। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে অর্থসংকটের কথা তুলে স্ত্রী কৌশলে পুরো সম্পত্তির মালিকানা নিজের নামে স্থানান্তর করেন। একই সময়ে ব্যাংকে যাতায়াতের সুবাদে এক বিকাশকর্মী ফারুক হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় গড়ে ওঠে, যা পরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে রূপ নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রবাসী স্বামীর দেশে ফেরার আগমুহূর্তে প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ টাকায় নির্মাণাধীন বাড়িটি বিক্রি করে দেন অভিযুক্তরা। এরপর স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে তারা আত্মগোপনে চলে যান। পরে কুমিল্লা শহরের একটি বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করছিলেন বলেও জানা গেছে। দেশে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে রফিকুল ইসলাম ব্যভিচার ও সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটির তদন্তভার কুমিল্লা সদর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ হোসেনের ওপর ন্যস্ত করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্তদের একটি বাসায় শনাক্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এদিকে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামীর পারিবারিক জীবনে দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং তার আচরণে নানা অনিয়ম ছিল। তিনি দাবি করেন, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিস্তারিত অনুসন্ধান শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। সেই সম্পদ প্রতারণা বা অনিয়মের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রবাসীদের সম্পদ সুরক্ষা ও আইনি সহায়তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা। ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম বলেন, “জীবনের সব সঞ্চয় হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব। আমি শুধু ন্যায়বিচার চাই।”



