আগস্টে তফসিল ও অক্টোবরে ভোট: ইভিএম ও দলীয় প্রতীক ছাড়াই হচ্ছে ইউপি নির্বাচন

  • প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, দুপুর ০৪:১২
  • আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, দুপুর ০৪:১২
WhatsApp Image 2026-06-06 at 4.10.44 PM

জিএম মাকছুদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জোর প্রস্তুতি চলছে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে, যার তফসিল আগামী আগস্টে এবং মাঠপর্যায়ের ভোটগ্রহণ অক্টোবর থেকে শুরু হতে পারে। তবে এই নির্বাচনকে ঘিরে এবার প্রথাগত কোনো সংলাপ বা আলোচনার টেবিলে বসছে না কমিশন; রাজনৈতিক দল কিংবা গণমাধ্যমের মতো অংশীজনদের ছাড়াই এগোচ্ছে পুরো প্রক্রিয়া। মূলত নির্বাচনী আচরণবিধিতে বড় ধরনের সংস্কার এনেই ভোটের মাঠে নামছে ইসি, যার জন্য ইতিমধ্যে আইন ও বিধি সংশোধন সংস্কার কমিটি দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও শেষ করেছে। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনি ধারাবাহিকতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছেন সংস্কার কমিটির প্রধান ও নির্বাচন কমিশনার মাছউদ। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা যেহেতু পদাধিকারবলে উপজেলা পরিষদের সদস্য এবং উপজেলার সংরক্ষিত নারী আসনগুলো ইউপি ও পৌরসভার প্রতিনিধিদের ভোটে নির্ধারিত হয়, তাই আইনি বাস্তবতায় আগে ইউপি নির্বাচন করতেই হবে; তা না হলে উপজেলা নির্বাচন করা সম্ভব নয়। এই ধারাবাহিকতায় সিটি করপোরেশন নির্বাচন যেকোনো সময় করা গেলেও জেলা পরিষদের নির্বাচন হবে সবার শেষে। ​এদিকে আসন্ন এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার চেনা আমেজ এবং আইনি প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু চমকপ্রদ ও বড় পরিবর্তন আসছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এবার নির্বাচনে কোনো ইভিএম বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার করা হবে না এবং থাকছে না পোস্টাল ব্যালটের সুবিধাও। এমনকি প্রার্থীরা প্রচারণার জন্য প্রথাগত পোস্টারও ব্যবহার করতে পারবেন না। অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সুযোগ এবার থাকছে না এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ ভোটারের যে আগাম সমর্থনের নিয়ম ছিল, তা-ও পুরোপুরি তুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রার্থীদের মনোনয়নের জন্য জামানতের টাকার অঙ্ক এবার বাড়ছে। এছাড়া হলফনামার সাথে আলাদা কোনো অঙ্গীকারনামা দিতে না হলেও মূল ফরমের ভেতরেই একটি বিশেষ ঘোষণাপত্র থাকবে, যেখানে প্রার্থীকে আচরণবিধি মেনে চলার আইনি প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। ​সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে ইসি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নির্দলীয়। আচরণবিধিতে কোনো বিশেষ দলকে বাদ দেওয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে না; বরং যার আইনি যোগ্যতা থাকবে এবং যিনি অযোগ্য নন, তিনি দল-মত, ধর্ম বা লিঙ্গ নির্বিশেষে স্বাধীনভাবে ভোটে দাঁড়াতে পারবেন। ভোটের আগে দলগুলোর সাথে সরাসরি কোনো সংলাপ না হলেও ইসি তাদের সমস্ত আইনি ও বিধিসম্মত পরিবর্তনের খসড়া নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে, যাতে সাধারণ মানুষ ও অংশীজনরা ঘরে বসেই তাদের মতামত বা পরামর্শ দিতে পারেন।

Ad